Tuesday, 27 November 2018

তাঁরা বাতি

**** তাঁরা বাতি****

      মতিউর রহমান
   -----------------------

জ্বলতে না জ্বলতেই নিভে গেলো,
নিভে গেল অজস্র তাঁরা বাতি।
এইতো সেদিন এসেছিলো,
প্রাণ ভরে হেসেছিল সবে।
যদিও কোন উৎসব ছিলো না,
ছিলো না কোন রকম নিমন্ত্রণও।
তবু তারা' এসেছিলো......
এসেছিলো এ পুরো চাতালে,
জ্বালাতে প্রাণের আলো।
হয়তো একটু বেসেছিলো ভালো।
তা জানা নেই।
জানা নেই কখন কিভাবে কেটে গেল তার,
আর মুহূর্তে আমায় আঁধারে ঢেকে
জ্বলার আগেই নিভে গেল সব তাঁরা বাতি;
তোমার আঙিনা ও কি আজ এমন অন্ধকার!

Friday, 16 November 2018

==π=মনে রেখোনা আমায়=π==
÷÷÷÷÷÷ নীলা

ভালোবাসনি যখন...
ডাকো কিসের আশায়-
ভুলে যাও!!!
মনে রেখোনা আমায়।

স্বপ্নসুখের আশায়...
প্রেমময় ভালবাসায়-
চেয়েছিলাম তোমায়
তাই, ক্ষমা করো আমায়।

বাঁচতে চেয়েছি বলে...
কাঁদালে তুমি আমায়-
নাইবা হলে আমার
ভালো থেকো, সব সময়।

চাইবো না তোমায়...
ভালোবাসায় আর-
ভালবাসি, ভালোবেসে যাবো
এ মনে আমি আজীবন।

চলে যাও...
অনেক অনেক দুরে-
স্মৃতি নিয়ে তোমার
বেঁচে রবো অবনী পরে।

মনে রেখোনা...
আমারে কোনদিন-
ভুলে যেও, কেউ তোমায়
জীবন দিয়ে ভালো বেসেছিলো।

Sunday, 4 November 2018

****কুমার জীবন****
-------------------------------------
একজন পুরুষের জীবনে রয়ে গেছে কিছু ভাগ,
 যার মধ্যে কোনটার জন্য মনে থাকে অনুরাগ!
 যখন সেটা পার হয়ে যায়, মনে থাকে কষ্ট;

 কভু ফেরানো যাবে না সেটা, তা তো সুস্পষ্ট!
 মাত্র একবারই জীবনে আসে সেই সুবর্ণ সময়,
 কুমার জীবনই সেটা, যদি কেউ তার নাগাল পায়!

 এটা সেই জীবন যেথা মানুষ পায় কিছু উত্তালতা,
 এটাই সেই সময় যখন সে পায় ‘না’ বলার স্বাধীনতা।

 কুমার জীবন উপভোগ্য কিন্তু যে ভোগ করতে পারে,
 বিয়ের পরে যা হারিয়ে যেতে পারে কিন্তু চিরতরে!
 জীবনের সুবর্ণ সময়গুলো তো আসে না বারবার,
 তাই চেষ্টা কর এর পরিপূর্ণ সদ্ব্যবহার করার!

 বৈবাহিক জীবনে অনেক সময় এসে যায় জটিলতা,
 নিজের দিকে নজর দেবার তখন আর সময় কোথা?
 অনেক ছেলেই আগে ভাগে বুঝতে পারে না এটা,
 বুঝে তখনই যখন জটিল আকার ধারণ করে সেটা!

 বিয়ের পরে একটা ছেলের জীবনে আসে পরিবর্তন,
 কিন্তু সেটা সে বোঝে না যখন সময়ের হয় সংক্ষেপন!
 নিজের আবেগ অনুভুতিগুলোর দিও না অকাল সমাধি,
 মুল্যায়ন করতে শেখ কুমার জীবনের সংক্ষিপ্ত কালবিধি।

Friday, 2 November 2018

**পুরনো চিটি**
-----------------------------
বাসার গেটে এসে থামলো
 নীল রঙের একটা গাড়ী,
 দেরী হয়নি মোটেও
 আসতে তার বাড়ী!

 একজন মানুষ নেলে এল
 হাতে ব্যাগের বোঝা,
 মাঝবয়সী মানুষ উনি,
 দেখতে সরল সোজা!

 ধীর পায়ে হেটে চলেন
 সামনে বন্ধ দুয়ার-
 নিঃশব্দে এগিয়ে যান,
 লোক আসবে খোলার।

 মৃদু চাপে উনি যখন
 বাজিয়ে দিলেন ঘন্টা,
 রহস্যময় এক ঘটনা
 যা চঞ্চল করবে মনটা!

 বয়স্কা এক মহিলে বলেন,
 ‘কে আছে ওখানে?’
 লোকটা তখন বলে ওঠে,
 ‘মা! আমিই দাঁড়িয়ে এখানে’।

 আনন্দের আতিশয্যে মা তখন
 হয়ে যান বোকা,
 খুশি হয়ে বলে ওঠেন,
 ‘আয় রে আমার খোকা!

 অশ্রুসজল নয়নে মা বলে,
 ‘এতদিন পর এলি খোকা?
 এতদিন কোথায় ছিলি তুই?
 দিয়ে আমায় ধোঁকা?’
 মাকে জড়িয়ে ধরে লোকটি,
 কপালে দেয় চুম!
 ‘তোমাকে ছেড়ে মা আমার
 চোখে ছিলনা ঘুম’।

 ‘বাবা, রিশ্রাম নে’।
 মা ওঠেন বলে,
 ঠিক যেন ছোট্ট পাখি
 সাঝেঁ নীড়ে ফেরে।

 গোসল সেরে উনি
 হয়ে ওঠেন সতেজ,
 সারা বাড়ীজুড়ে যেন
 ফুলের সুরভী আমেজ!
 এরপর উনি যখন
 সেরে ওঠেন প্রার্থনা,
 মা তখন নিয়ে আসেন
 খাবার ভর্তি খাঞ্ছা।

 মা তো বানিয়েছেন
 অনেক রকম খাদ্য,
 অতুলনীয় সেগুলো যে
 সবকিছুই অনবদ্য!

 মা বলেন, ‘২০ বছর আগের
 চিঠি একটা আছে পুরান,
 তুই হয়ত বুঝবি,
 জানবি কার নাম’।

 ‘বহু বছর হয়ে গেল
 যখন আমি গেলাম,
 অনেক বছর পার করে
 ঠিকি ফিরে এলাম’।

 ‘ঠিক’, মা বললেন
 দিয়ে একটু হাসি।
 ‘চিঠি টা দাও তো,
 খুলে তবে দেখি!’
 হলুদ খামে মোড়া চিঠি
 লেখাগুলো ঝাপ্সা-
 মনে পড়ছে না কিছু
 ক্লান্তিতে সব আবসা!
 বালিসে হেলান দিয়ে ওটা
 চেষ্টা করেন দেখা-
 লেখা দেখে মনে হয় যেন
 কোন কাঁচা হাতের লেখা!
 ভাল করে দেখার পরেও
 ঠাহর হল না কিছুই,
 স্মৃতির পাতা হাতড়ে গিয়ে
 হতাশ হলেন শুধুই!
 এক ঝটকা আলোর মত
 কি যেন এল মনে,
 দুঃখে ছেয়ে গেল মুখ
 চিঠির পানে চেয়ে।

 কেউ তো জানে না
 কি ছিল লেখা,
 জানে শুধুই সে-
 যে পেয়েছে দেখা।

 এরপর যে কি হল
 তা নেই কারো জানা,
 কবিতায় যে সব কথা
 বলতে আছে মানা।

ডাকবাক্স

প্রিয় (এস), -এম আর মিঠু। অবশেষে শহর ছাড়ছি। কোথায় যাব ঠিক করিনি। তোমার কথা মনে হলেই বারবার মনখারাপি এসে হানা দিচ্ছে দুয়ারে। আচ্ছা, হারিয়ে যাও...