Wednesday, 15 February 2023

ডাকবাক্স

প্রিয় (এস),

-এম আর মিঠু।


অবশেষে শহর ছাড়ছি। কোথায় যাব ঠিক করিনি। তোমার কথা মনে হলেই বারবার মনখারাপি এসে হানা দিচ্ছে দুয়ারে। আচ্ছা, হারিয়ে যাওয়া মানুষেরা কি মনখারাপ করতে পারে? কান্না পেলে চোখ দিয়ে জল গড়ায়? কারও কাছে অভিযোগ করে?

যাওয়ার পথে তোমাদের বাসায় উঁকি দিয়েছিলাম। তাকিয়ে দেখি, ভেতরে কিযে এক করুণ নীরবতা, হাহাকার। তোমার শখের প্রিয় বিড়ালটাও অযত্নে মিলিয়ে গেছে। এমন ব্যথাতুর অযত্নে কে আর ভালো থাকে বলো?


মনের অজান্তেই তোমাকে ডেকেছি কয়েকবার, (এস) বাড়ি আছো? চলো একবার শহর দেখে আসি। দেখে আসি ক্লান্তি নিয়ে বেঞ্চিতে শুয়ে পথচারী, উদ্বাস্তুদের সেই তৃপ্তির ঘুম। জানো আমার খুব বাসনা হয়, লোভ জাগে—এভাবে যদি একটু ঘুমোতে পারতাম। তোমার কাছে বায়না ধরি তোমার কোলে মাথা রেখে ঘুমোবার। কত দিন ঠিকঠাক ঘুম হয় না আমার।


আকাশের দিকে তাকিয়ে মেঘ দেখতে পারো? মনে পড়ে তোমার বাসার ছাদে দাঁড়িয়ে আকাশ দেখার কথা? প্রতিবার মেঘেরা এসে আত্মসমর্পণ করতো তোমার কাছে।

 আজ আমি হাঁটছি। শুধু হেঁটেই যাচ্ছি। বড় বড় পা ফেলে যত দ্রুত সম্ভব পালাতে চাইছি এই শহর ছেড়ে স্মৃতি থেকে রুদ্ধশ্বাসে পালিয়ে বেড়ানো এক পথিকের বেশে। তোমার চোখে আমি যে প্রশান্তি খুঁজে পেয়েছিলাম, সেটা এভাবে কখনো দাবানল হবে ভাবতে পারিনি। ভেতরের তীব্র যন্ত্রণা যদি কখনো দেখতে পেতে, পারতে কি যেতে?


আজকাল তোমার প্রিয় শিউলি ফুল তোমার ওপরেই ঝরে পড়ে। আমি অপেক্ষার পাহারা বসিয়ে রাখি। যদি তুমি খোলাচুলে ফিরে আসো কোনোকালে, ফিরে আসো টিনের চালে বৃষ্টির ফোঁটা হয়ে।

ভালো থেকো তুমি। ভালো থেকো ওই দূর ওপারে।


ইতি,

এম আর মিঠু।




Tuesday, 14 February 2023

ছন্দালয়

অনিশ্চয়তার ভালোবাসা

-এম আর মিঠু।


প্রেম নিবেদনে চিঠির যুগের একেবারে শেষের দিকের মানুষ আমি। তা–ও সেটা স্কুলে পড়ার সময়ের কথা বলছি। সেই সময়ের প্রেমের ধরন, গভীরতা ছিল অন্য রকম। চিঠির যুগ পেরিয়েছে সেই কবে। সময়ের সঙ্গে প্রেমের আবেদনও বদলেছে। এখনকার প্রেমের স্থায়িত্ব কম, আবার খুব ক্যালকুলেটিভ। এই ক্যালকুলেটিভ প্রেমের যুগে আমার এমন এক জুটির সঙ্গে সাক্ষাৎ হয়েছে, যাদের দেখে দীর্ঘদিন পর মনে হয়েছে, প্রেম সবকিছুর ঊর্ধ্বে, প্রেম মানুষকে অন্ধ করে দেয়, প্রেমের শক্তি অপরিসীম। নিখাদ ভালোবাসা না থাকলে অনিশ্চয়তার পথে পা বাড়ানো যায় না। এই অনিশ্চয়তা জীবন–জীবিকার নয়, এই অনিশ্চয়তা জীবনের।


তাদের সঙ্গে আমার দেখা দেশের বাইরের একটি হাসপাতালের অপারেশন থিয়েটারের বাইরে। আমার আব্বু তখন অপারেশন থিয়েটারে। আমি বাইরে বসে আছি। পাশের বেঞ্চে বিষণ্নতায় আচ্ছন্ন একটি মেয়ে জড়সড় হয়ে বসে আছে। বয়স ২৩ কি ২৪। মুখটায় এত মায়া, চোখ দুটো দেখে বোঝা যায়, দীর্ঘদিন ঘুমায়নি। একধরনের তীব্র অনিশ্চয়তার ছাপ তার মুখে। আমি জানতে চাইলাম, কে আছে হাসপাতালে? বলল, তার স্বামী। দুজনই আছি রোগীর অপেক্ষায়।

মেয়েটির নাম ঐশানি। ঐশানি নামের অর্থ হলো, শক্তির প্রতীক। দেবী দুর্গার আরেক নাম ঐশানি। ভীষণ মানসিক দৃঢ়তাসম্পন্ন এই মেয়ে সাত মাসের পরিচয়ে অভীক নামের ছেলেটিকে বিয়ে করে পরিবার ছেড়ে সেই মুহূর্তে হাসপাতালের অপারেশন থিয়েটারের বাইরে সময় গুনছে। ২১ দিনের মতো আমি সেখানে ছিলাম। ঐশানি দেবী দুর্গার মতোই অভীককে আগলে রেখেছে। প্রতিটি দিন ওর জন্য একেকটি চ্যালেঞ্জ। পরিবার সঙ্গে নেই তার। নতুন পরিবারের মানুষদের সঙ্গে মিলিয়ে নেওয়াটাও ছিল ভীষণ চ্যালেঞ্জ। অভীকের পরিবার ঐশানিকে শুরুতে ভালোভাবে নেয়নি।


সুন্দর জীবনের স্বপ্নে বিভোর ঐশানিকে পদে পদে পরীক্ষা দিতে হয়েছে এখনো হচ্ছে। ঐশানির বাবা নেই। আমরা যে কদিন ছিলাম মেয়েটি আমার বাবার আরেকটা মেয়ে হয়ে উঠেছিল। মানুষকে আপন করে নেবার আশ্চর্য ক্ষমতা ওর আছে। ওর ভেতর এমন এক প্রাণশক্তি আছে যা আশপাশের মানুষদের স্বস্তি দেয়। আমার মনে হয়, ঐশানির জীবনীশক্তির বলেই অভীক এই অবস্থা থেকে ফিরে এসেছে। এখনো লড়াই করছে। কতটা মানসিক শক্তি আর প্রেম থাকলে একটা মেয়ে সব জেনে এভাবে পথ চলতে পারে, সেটা ওকে দেখলেই বোঝা যায়। জীবনে বেঁচে থাকার জন্য এমন একজন ঐশানি প্রয়োজন সবার। যে নিজের প্রেম, ভালোবাসা ও সম্মোহনী শক্তি দিয়ে সবাইকে আগলে রাখবে।


আমরা চলে আসার পরও তারা সেখানেই ছিল। প্রায় ছয় মাস থাকতে হয়েছে তাদের। এই লেখা লিখতে বসার আগে ঐশানিকে কল দিয়েছিলাম। জানলাম, ২ দিন হলো আবারও অভীককে নিয়ে ও বিদেশের সেই হাসপাতালে আছে। জীবনযুদ্ধ এখনো তাদের শেষ হয়নি। তবু স্বপ্ন ও সাহস নিয়ে এগিয়ে চলেছে অনিশ্চয়তার ভালোবাসাকে নিশ্চয়তা দেওয়ার জন্য।

Sunday, 5 February 2023

Kobita7day.blogspot.com

একটি গোলাপ


এম আর মিঠু।

======================


তোমায় ভালোবেসে দিতে চাই একটি গোলাপ,

সাদা কিংবা লাল নয়, গাছ থেকে ছিঁড়েও নয়

নয় ক্রয় করা কোন বিক্রেতার।


তোমায় ভালোবেসে দিতে চাই একটি গোলাপ,

পাথরের কিংবা ঝিনুকের নয়,কাগজের তৈরিও নয়

নয় কোনো মাটির তৈরি নকশার।


তোমায় ভালোবেসে দিতে চাই একটি গোলাপ, 

যা শুকিয়ে যাবে না কখনো,যাবে না ভেঙে কিংবা ছিঁড়ে

পচে গিয়ে বাসা বাঁধবে না পোকামাকড়।


তোমায় ভালোবেসে দিতে চাই একটি গোলাপ,

যা ছুঁয়ে দেখতে পারবে না,পারবে শুধুই অনুভব করতে

যার প্রতিটি পাপড়ির মাঝেই পাবে খুঁজে আমার অস্তিত্ব।


 তোমায় ভালোবেসে দিতে চাই একটি গোলাপ,

 যা অনুভব করলেই উপলব্ধি করতে সক্ষম হবে—

 আমার আবেগ, আমার পাগলামি, আমার স্বপ্ন

 আমার সুখ, শান্তি ও না পাওয়ার চাওয়াময় ভালোবাসার।


তোমায় ভালোবেসে দিতে চাই একটি গোলাপ,

খুব কাছ থেকে নয়,তোমাকে বাধ্য করেও নয়

নয় প্রকাশে কিংবা ছলনায়!


তোমায় ভালোবেসে দিতে চাই অন্তর নামক চঞ্চলময় অশান্ত অনুভূতির একটি গোলাপ!

যা প্রতিটি ঋতুতেই ফুটন্ত একবার, শুধু একবার উপলব্ধি করতে শেখো- খুঁজে পাবে আমায়।




Saturday, 4 February 2023

ছন্দালয়

 

খুব মনে পড়ে


- এম আর মিঠু।

_____________________

আজও তোমায় মনে পড়ে প্রিয়,
খুব বেশি মনে পড়ে।
আঁধার রাতের মিটিমিটি তাঁরাদের দেখে
তোমার কথা খুব মনে পড়ে।


বর্ষার ঐ মাতাল করা হাওয়া যখন গায়ে এসে লাগে ,
তোমায় তখন খুব মনে পড়ে।
খোলা জানালা দিয়ে যখন বৃষ্টির হালকা পরশ আমার গায়ে লাগে,
ঘুমন্ত অনুভূতিগুলো তখন আবার জেগে ওঠে,
আর তোমার কথা হৃদয়ের মাঝে জাগে।


আজও যখন তোমার দেওয়া আদ্রিতা রঙের পাঞ্জাবীটার দিকে তাকাই,
তোমার স্মৃতিগুলো আমার নয়ন ভেজায়।

মাঝরাত্রিতে যখন ভয়ঙ্কর কোন দুঃস্বপ্নে আমার ঘুম যায় ভেঙ্গে যায় ,
তখন এ হৃদয় শুধুই তোমার ছায়া খোঁজে।

কেন  দূরত্ব চলে গেলে এই অবেলায়?
তোমার প্রতিটি স্মৃতি যে আজও আমায় কাঁদায়।
ওপারেতে কি খুব সুখে থাকবে তুমি?
কি করে বাঁচবো বলো তোমায় ছাড়া আমি?

আজও আমি তোমায় খুব ভালবাসি
তোমায় এ বুকে যতনে গেঁথে রাখি।
পারব না কভু থাকতে তোমায় ভুলে
প্রিয় তোমায় আজও খুব মনে পড়ে।

Tuesday, 31 January 2023

ছন্দালয়

 

নীল আকাশের মেঘ


এম আর মিঠু।

===================

নীল আকাশের মেঘ তুমি
আকাশের নীলে নীলে ভাসো,
রোদ্র ছায়ার খেলায় তুমি
মাঝে মাঝে অদ্ভুত হাসা হাসো।

আমার কষ্ট আছে সুখ আছে
আছে কত যে বেদনা,
আমার সময় থমকে দাঁড়ায়
প্রাণের প্রিয় যে তবু আসে না।

দেশ থেকে দেশান্তরে
যাই উড়ে উড়ে,
আমার অবুঝ মন
তাকেই খুঁজে মরে।

বৃষ্টি হয়ে মাঝে মাঝে ঝরে লোনা জল
মনে সবি ভাসলো তার কান্নায় অবিকল।
আমি নীরবে তারে ভাবি
আমার হৃদয় পটে আঁকি যে তার ছবি।

ছন্দালয়

স্বপ্ন তরী

-এম আর মিঠু।

=============

এমনিতেই স্বপ্ন দেখতে 

এখন ভয় করে,

তার উপর তোমার রক্ত চোখ।


আজ আমি সাদাকালো মাঝখানে

নীল সীমারেখায় দাড়িয়ে।


দুহাতে দুমুঠো বিশ্বাস

দুচোখে দু ফোটা অশ্রু,

শুধু এতটুকুর জন্যই বেচে থাকা।


অশ্রুতে স্নান করে বিশ্বাসে ফলে ফসল

কিছু তিক্ততা সীমাহীন বিষন্নতা।


যতদূর চোখ যায় স্বপ্ন উড়াই,

দু ফোটো অশ্রু আর

দু মুঠো বিশ্বাসের বড়াই।


শুধু তুমিই পারবে শীতল বাতাসে

ঘাটে ভিড়িয়ে দিতে আমার স্বপ্ন তরী।

ছন্দালয়

একদিন এসো প্রিয়া


-এম আর মিঠু।

=======================


একদিন এসো প্রিয়া জয়নুলের আবেদিন পার্কে, 

চারিদিকে তৃণ সবুজের সুঘ্রাণে মন মাতিয়ে যাবে।


কুয়াশার আঁধারে ঢাকা সকাল কনকণে হিমহিম বাতাস, 

শিশিরে ভেজা ফুলের পাপড়ীফুল বনে বনে ভ্রমরার গুনগুনানি।


শীতের শিশির–ঝরা প্রভাতে নগ্ন পা ভেজাব দুজনে মিলে

বিন্দু বিন্দু শিশির জলে,

সরিষা মটর ফুল মৌমাছির গুঞ্জণে হারিয়ে যাব ভালোবাসার স্রোতে।


উঠানভরা ছড়ানো সোনালি ধান এসো নতুন ধানের ঘ্রাণ শুকে,

নতুন চালের পিঠার থালা হাতে হাত বাড়িয়ে থাকব দাঁড়িয়ে।

ডাকবাক্স

প্রিয় (এস), -এম আর মিঠু। অবশেষে শহর ছাড়ছি। কোথায় যাব ঠিক করিনি। তোমার কথা মনে হলেই বারবার মনখারাপি এসে হানা দিচ্ছে দুয়ারে। আচ্ছা, হারিয়ে যাও...